
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রী চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলকে। পর্যটননির্ভর এ রুটে দিন দিন যাত্রী চাহিদা বাড়ায় ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। বর্তমানে চার জোড়া ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এরই মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। আগামী মাস থেকে ট্রেনটি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে রেলওয়ে।
ট্রেনে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ভ্রমণে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দুটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চলছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে প্রবাল ও সৈকত নামে আরও দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মাস থেকে চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ ১০টি স্টেশনে ট্রেন থামলে নির্ধারিত সময়ে কক্সবাজার পৌঁছে আবার চট্টগ্রামে ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদীন জানান, শুধু এ স্টেশন থেকেই ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৭২২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এসব টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৪ লাখ ২ হাজার ২৬৫ টাকা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮৯ হাজার ১৯৩টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ২১৮ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার ৮৫৬টি টিকিটে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ২৬৬ টাকা। মার্চে ৮০ হাজার ১৭টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৯১ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৪ টাকা।
এপ্রিলে ৮২ হাজার ৪টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৫ টাকা। মে মাসে ৭৮ হাজার ৬০৬টি টিকিটে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭১৩ টাকা। জুনে ৮৫ হাজার ১৪০টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৫ কোটি ২৬ লাখ ২১ হাজার ৯৫৮ টাকা।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ৮৪ হাজার ৫১৭টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয় ৫ কোটি ১০ লাখ ২২ হাজার ৮৩০ টাকা। আগস্টে ৮৪ হাজার ৫৪টি টিকিটে আয় হয় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬০ টাকা। সেপ্টেম্বরে ৯০ হাজার ৩৩০টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয় ৪ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৭ টাকা।
অক্টোবরে ৮৬ হাজার ৭৯৭টি টিকিটে আয় হয় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৪০ টাকা। নভেম্বরে ৮১ হাজার ৩৩৮টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৫ হাজার ২৯২ টাকা। ডিসেম্বরে ৯৬ হাজার ৮৭০টি টিকিটে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭২ টাকা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীন বলেন, ঢাকা থেকে চলাচলকারী আরও একটি ট্রেন কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এ জন্য ট্রেনের কোচ ও ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো পাওয়া গেলে পর্যাপ্তসংখ্যক ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সহজে কক্সবাজার যাতায়াত করতে পারেন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার সড়কপথে ১৫৯ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা। বিপরীতে ১৫১ কিলোমিটার রেলপথে যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। সড়কপথের বিপজ্জনক বাঁক এড়িয়ে রেলপথে তুলনামূলক নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় এ রুটে আরও ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
রেলওয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দুটি বিরতিহীন ও দুটি লোকাল ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি মাসে কক্সবাজার রুটে প্রায় দেড় লাখ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। আগামী বছরের মধ্যে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে রেলওয়ের। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১০ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।